বান্দরবান, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী উৎসব মারমা সম্প্রদায়ের “মাহাঃ সাংগ্রাই পোয়ে” উপলক্ষে আজ সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার ২নং কুহালং ইউনিয়নের চেমীডলু পাড়ায় আয়োজিত সাংগ্রাইং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য মাননীয় মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র জনাব সাচিং প্রু জেরী এমপি এবং বান্দরবান উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি জনাব চথুই প্রু মারমা। তাদের আন্তরিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মন্ত্রী মহোদয় উৎসবে যোগ দেন এবং মারমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে অংশ নেন।
সকালে চেমীডলু পাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে সাংগ্রাইং অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্থানীয় মারমা জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে বর্ণিল আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। ঢোল-বাদ্য, নৃত্য এবং পানি ছিটানোর আনন্দঘন মুহূর্তে পুরো এলাকা উৎসবের রঙে রাঙিয়ে ওঠে। সাংগ্রাই পোয়ে মূলত মারমা সম্প্রদায়ের নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার একটি আনন্দময় আয়োজন, যেখানে পুরাতন বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশায় এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মাননীয় মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের সম্পদ। এসব উৎসব শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মারমা সম্প্রদায়ের এই উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এমপি বলেন, সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মিলনমেলা। এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়। তিনি সবাইকে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান।
বান্দরবান উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চথুই প্রু মারমা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও পরিচিত করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা, যা ‘জলকেলি’ নামে পরিচিত। এই খেলায় অংশগ্রহণ করে সবাই একে অপরের ওপর পানি ছিটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন, যা নতুন বছরের শুভ সূচনার প্রতীক।
উল্লেখ্য, মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই পোয়ে তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়। এই সময় নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ পূজা, পুণ্য দান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং জল উৎসব।
সব মিলিয়ে, আজকের এই আয়োজন বান্দরবানে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলন ঘটেছে।

0 মন্তব্যসমূহ