রোয়াংছড়ি (বান্দরবান)
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তাইম্রংছড়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রীতিময় তঞ্চঙ্গ্যার বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারটি পরিবারের ঘরবাড়ি লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা সদরের প্রবেশমুখে থাকা তোরণের উচ্চতা কম হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িটি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে বিকল্প পথে যেতে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এ সময়ের মধ্যে আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কোনো সম্পদ রক্ষা করা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে চারটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, নগদ অর্থ এবং মজুদ খাদ্যশস্য সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজমিন আলম তুলি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ৪০টি কম্বল, ৫০ কেজি করে ২ বস্তা চাল, ৫টি গামছা ও ৫টি লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া রোয়াংছড়ি আর্মির ২৮ বেঙ্গল ইউনিটের পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং চারটি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রবেশমুখে থাকা নিম্ন উচ্চতার তোরণ অপসারণ বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী যানবাহন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ