বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা-র ২৯০ নং মাংগু মৌজার অন্তর্গত পামিয়া, তংতুই, নামসাত, খাকৈ পাড়াসহ কয়েকটি ম্রো অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ গাছ পাচারকারী চক্র পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের “মাতৃত্ব গাছ” বা প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষগুলো কেটে ফেলছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে এসব বনভূমি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বনই তাদের খাদ্য, জ্বালানি, ঔষধি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উৎস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও চক্র এই বনকে টার্গেট করে নির্বিচারে গাছ কাটছে। বিশেষ করে বড়, পুরনো এবং বীজ উৎপাদনক্ষম গাছগুলো—যেগুলোকে স্থানীয়রা “মাতৃত্ব গাছ” হিসেবে চিহ্নিত করেন—সেগুলোই বেশি কাটা হচ্ছে। ফলে বন পুনর্জন্মের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রম দিনের বেলায় গোপনে এবং রাতে আরও সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। পাচারকারীরা কাঠ সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে তা বাইরে পাচার করছে। অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কাজ চলছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারছে না।
পরিবেশবিদদের মতে, মাতৃত্ব গাছ ধ্বংস মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়, বরং পুরো একটি বনজ ইকোসিস্টেমের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলা। এসব গাছ প্রাকৃতিকভাবে বীজ ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে সহায়তা করে। এগুলো কেটে ফেলা হলে বন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হ্রাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, “আমরা আমাদের বন বাঁচাতে চাই। এই বন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে এই এলাকা সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে যাবে।” তারা অবৈধ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বন পাহারা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে টেকসই বন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি গাছ পাচার প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যক্রম চালু করারও দাবি জানান তারা।
সবশেষে, পরিবেশ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ একটি বন ধ্বংস মানে শুধু একটি এলাকার ক্ষতি নয়, বরং পুরো দেশের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় হুমকি।


0 মন্তব্যসমূহ