শিরোনামঃ

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

৬ শতক জমিতে ঢেঁড়শ চাষে সফল ইব্রাহিম, স্বপ্ন দেখাচ্ছে তরুণদের

 

নিজের ঢেঁড়শ ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত ইব্রাহিম হোসেন।

ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে অল্প সম্পদ নিয়েও বড় কিছু করা সম্ভব—এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন। মাত্র ৬ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের ঢেঁড়শ চাষ করে তিনি এখন সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, ইব্রাহিম প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে বাজার থেকে উন্নত মানের হাইব্রিড ঢেঁড়শের বীজ সংগ্রহ করেন। নিজের শ্রম এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন সবুজে ঘেরা একটি বাগান। বর্তমানে এই বাগান দেখাশোনা করছেন তিনি নিজে, তার বাবা এবং ছোট ভাই।

পরিবারের সদস্যদের শ্রম ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ না থাকায় লাভের পরিমাণও বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ কেজি ঢেঁড়শ সংগ্রহ করা হচ্ছে তার বাগান থেকে। বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়শ ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন তিনি।

ইব্রাহিম জানান, “গাছগুলো এখনো মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। গাছ বড় হলে উৎপাদন আরও বাড়বে। সামনে বিক্রির পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে আশা করছি।”

ঢেঁড়শ চাষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, কড়া রোদে কাজ করার সময় গাছের সূক্ষ্ম রোঁয়া শরীরে লেগে চুলকানি সৃষ্টি করে, যা শ্রমিকদের জন্য অস্বস্তিকর। ফলে অনেক সময় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে তিনি মনে করেন, ধৈর্য ও সঠিক সুরক্ষা থাকলে এই সমস্যাকে সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

আগামী ভাদ্র মাস পর্যন্ত এই বাগান থেকে ঢেঁড়শ সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করছেন ইব্রাহিম। বর্তমানে এই চাষাবাদ থেকেই তার পরিবারের ভরণপোষণসহ সব ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেক তরুণ এখন আধুনিক কৃষিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ইব্রাহিমের বাবা আব্দুল করিম বলেন,
“আমরা পরিবার মিলে নিজেরাই কাজ করি। শুরুতে কষ্ট ছিল, এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। আল্লাহর রহমতে এখন উৎপাদন দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে।”

ছোট ভাই বলেন,
“আমি নিয়মিত বাগানে কাজ করি এবং বাজারে বিক্রিও করি। নিজেরা কাজ করায় খরচ কমছে। প্রতিদিনের আয় আমাদের পরিবারের জন্য অনেক সহায়ক।”

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন,
“মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ইব্রাহিমের মতো তরুণরা এগিয়ে আসায় কৃষি খাত সমৃদ্ধ হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ঢেঁড়শ চাষ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code

Responsive Advertisement