শিরোনামঃ

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত জনপদ, সেতুহীন দুর্ভোগে পাঁচ হাজার মানুষ

 

 

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী দুর্গম এলাকায় এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। হরিণখাইয়া খালের ওপর স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি ভাঙাচোরা কাঠের তক্তার সেতুই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের ওপর নির্মিত অস্থায়ী এই সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তক্তা ভেঙে গেছে, কোথাও সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, আবার কোথাও নড়বড়ে হয়ে আছে। নিচে রয়েছে পানিতে ভরা খাল, যা চাষাবাদের জন্য বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই খালটি দুই ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের সংযোগস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়াপাড়া, হরিণপাড়া, ঘোনাপাড়া, উত্তর থোয়াঙ্গাকাটা এবং বাইশারী ইউনিয়নের নারিচবুনিয়া এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এটি একমাত্র চলাচলের পথ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হয়ে যেতে বাধ্য হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে—বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, বাইশারী দাখিল মাদ্রাসা, বাইশারী মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাইশারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলিমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আলিমিয়া পাড়া দারুল ইহসান জুনিয়র দাখিল মাদ্রাসা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে পুরো সেতুটি তলিয়ে যায়, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় জরুরি রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয়রা। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে কাঁধে বা কোলে করে খাল পার করতে হয়। এমনকি মৃতদেহ বহন করাও হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের আশা, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এ দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement