বান্দরবান পার্বত্য জেলার হাজারো তরুণের কাছে এনজিও চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের উৎস। প্রতি বছর বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও, বাস্তবে ফ্রেশার বা নতুন প্রার্থীদের জন্য সুযোগ খুবই সীমিত বলে অভিযোগ করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।
স্থানীয়দের মতে, অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই প্রার্থীদের নাম নির্ধারিত থাকে। ফলে আবেদন প্রক্রিয়াটি অনেক সময় শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তবুও আশার আলো নিয়ে শত শত তরুণ আবেদন করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পান মূলত সেইসব প্রার্থীরা—যারা আগে ওই সংস্থার কোনো প্রকল্পে কাজ করেছেন অথবা যাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
চাকরি প্রার্থীদের প্রশ্ন, যদি পূর্ববর্তী কর্মীদেরই পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন কী? একই সঙ্গে তারা জানতে চান, যদি সবসময় অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে নতুনরা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে কীভাবে?
এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হলেও, প্রার্থীদের অভিযোগ—মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। এতে করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণরা দ্বিমুখী চাপে রয়েছেন। একদিকে দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব, অন্যদিকে চাকরির আশায় সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার হতাশা। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চাকরি প্রার্থীরা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা এবং নতুন প্রার্থীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি ন্যায্য ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বৈষম্যের শিকার না হয়।

0 Comments